ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ছাদে যাত্রীরা। ছবিটি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলওয়ে স্টেশন থেকে তোলা।
ঈদের মতো ভিড়, কিন্তু উপলক্ষ ভিন্ন। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। একইসঙ্গে সিলেটে বসবাসরত অন্য জেলার ভোটাররাও ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। সড়ক ও রেলপথ সবখানেই ঘরমুখো মানুষের ঢল।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রীদের চাপ বাড়ে কয়েকগুণ। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ট্রেনের বগিগুলোতে তো বটেই, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদের ওপর চড়েও শত শত মানুষকে সিলেটে ফিরতে দেখা গেছে।
শুধু রেলপথে নয়, সড়কপথেও যাত্রীদের চাপ চোখে পড়ার মতো। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কেউ বাস থেকে নেমে সিলেট শহরে প্রবেশ করছেন, আবার কেউ সিলেট ছেড়ে ছুটছেন দেশের অন্য প্রান্তে নিজ গ্রামের ভোটকেন্দ্রে।
কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে। সিলেট এমসি কলেজের সাবেক এই ছাত্র বলেন, “আমি সিলেটের মীরাবাজার এলাকার ভোটার। পড়াশোনা শেষ করে চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় চলে যাই। প্রায় ৭ বছর পর সিলেটে ফিরলাম শুধু ভোট দেওয়ার জন্য। বিকেলে ঢাকা থেকে বাসে উঠেছিলাম, রাস্তায় জ্যাম থাকায় পৌঁছাতে অনেক সময় লেগেছে। মনে হচ্ছে যেন ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছি।”
যাত্রীদের অনেকের অভিযোগ, ভোটের কারণে বাস ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘ দিনের ভোটাধিকার বঞ্চনা ঘুচিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহে সেই ভোগান্তিটুকু হাসি মুখেই মেনে নিচ্ছেন তারা।
সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, এবার সিলেট জেলায় মোট ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ জন এবং নারী ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮ জন। বিশেষ করে তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার নির্বাচনের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দু-একদিনে যাত্রীদের এই চাপ আরও বাড়বে।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সিলেট যেন ফিরে পাচ্ছে তার উৎসবমুখর রূপ। সবার প্রত্যাশা একটাই- যাত্রা হোক নিরাপদ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাধিকার প্রয়োগ হোক নির্বিঘ্ন।