প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৫:৪৩ (বৃহস্পতিবার)
আকাশে ড্রোন, মাটিতে ডগ স্কোয়াড: সিলেটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

আগামীকাল বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সিলেটজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আকাশে টহল দিচ্ছে ড্রোন, আর মাটিতে সক্রিয় রয়েছে বিস্ফোরক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড। বিভাগের চার জেলায় মোট ২ হাজার ৮৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ছক।

সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪৫১টি এবং মৌলভীবাজারে ২২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকছে ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’। কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের পরিস্থিতি লাইভ মনিটরিং করা হবে।

সিলেট জেলায় মোট ১ হাজার ১৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নগরীর ২৯৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৫টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এসব কেন্দ্রে সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ৬৬৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫১টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে দুর্গম হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১৫৭টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা কঠিন হওয়ায় হেলিকপ্টারের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ জানিয়েছেন, প্রতিটি উপজেলায় ২ প্লাটুন বিজিবি এবং ১ হাজার ১০০ সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে।

হবিগঞ্জ জেলায় ৬৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ, যার ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী জানান, প্রথমবারের মতো বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ১৭ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলায় ৫৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো গোলযোগ হলে মোবাইল টিম যাতে ১-২ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারে, সেভাবে ফোর্স বিন্যাস করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ ও ১৩ জন আনসার সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩-৪ জন পুলিশ ও ১৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নগরীর ২৯৪টি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে।”

ভোটারদের আশ্বস্ত করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।