ছবি: সংগৃহীত
সিলেট-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী কর্তৃক ধর্মীয় বিধান পর্দা বোরকা নিয়ে কটাক্কের নিন্দা জানিয়েছেন মহানগর ১১ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী কর্তৃক ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদের এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীদের নামে সাংবাদিক পাসকার্ড ইস্যু নিয়ে অভিযোগ করেছেন তারা।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমের সাথে দেখা করে উপরোক্ত অভিযোগ তুলে ধরেন ১১ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, সিলেট-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের প্রধান র্নিবাচনী এজেন্ট হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল, খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, জেলা সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসাইন, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সিলেট-১ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সহকারী পরিচালক ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারী দিলাওয়ার হোসাইন, এলডিপির সিলেট মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন ও বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ প্রমূখ।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মহানগর জামায়াতের আমীর ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেটের মানুষ ধর্মপ্রাণ। কিন্তু সিলেট-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বোরকা-পরা নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে আপত্তিকর মন্তব্য করে বলেছেন, বোরকা পরে কোন নারী ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেনা। একজন সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন যে নেকাব খুললে কি হবে। তখন তিনি বলেন, নেকাব খুললে হবে না, না বোরকা খুলতে হবে। এর মাধ্যমে তিনি ফরজ বিধান পর্দাকে অবমাননা করেছেন। এতে বোরকা পড়া নারীগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হবে। অবিলম্বে বিএনপি প্রার্থীকে তাঁর এই ধর্মবিদ্বেষী বক্তব্য পরিহার করে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।’
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমরা অভিযোগে বলেছি একজন মহানগর পদধারী বিএনপি নেতা সাংবাদিক পাসকার্ড নিয়েছেন, শুধু তাই নয়, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাও সাংবাদিক পাসকার্ড পেয়েছেন। এছাড়া বিএনপির দলীয় কর্মীদেরকে বিভিন্ন পত্রিকার মাধ্যমে বেশকিছু সাংবাদিক পাসকার্ড দেয়া হয়েছে। তারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা এও বলেছি যে, সিলেটের পেশাদার ও প্রকৃত সাংবাদিকগণ যেনো পাসকার্ড পান।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, দুজনের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। বাকীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্দানশীন নারীগণ মহিলা পোলিং এজেন্টের সামনে শুধু নেকাব খুলে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।