প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ২২:২৮ (বৃহস্পতিবার)
সুনামগঞ্জ-২: দল নয়, ব্যক্তি ইমেজেই নির্ভর করছে ভোট

ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে দীর্ঘদিন ধরে ভোটের রাজনীতি দল নয়, ব্যক্তি ইমেজের ওপর নির্ভর করছে। স্বাধীনতার পর থেকে সাধারণ ভোটাররা প্রার্থীকে ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় পরিচিতির ভিত্তিতে বেছে নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের প্রার্থী শিশির মনির একজন দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত হলেও, তার পরিবার পেরুয়া গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের অনিশ্চয়তার কারণে ভোটের ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য, যা তার জয়ের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার।

নাছির চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মজীবন দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ। তিনি ছাত্রজীবনে সিলেট এমসি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে দু’বার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

আগের নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও নাছির চৌধুরীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব ঘনিষ্ঠ। ১৯৯৬ সালে নাছির প্রথম সংসদ সদস্য হন ৫৯ হাজার ভোট পেয়ে, সুরঞ্জিত পেয়েছিলেন ৫৮ হাজার ৪৯৬ ভোট। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সুরঞ্জিত বিজয়ী হলেও নাছিরের ভোটও উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালের পর সুরঞ্জিত আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি।

তার মৃত্যুর পর ২০১৭ সালের উপনির্বাচনে তার স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়া সেনগুপ্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮০ হাজার ১৩৯ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের আল আমিন চৌধুরী ৫৪ হাজার ৯৯৮ ভোট পান।

এই আসনে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থন নাছির চৌধুরীর বাক্সে যুক্ত হওয়ায় তার জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।