প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৯:৪৭ (শুক্রবার)
১৫ মার্চ গণভোটে যাচ্ছে কাজাখস্তান

ছবি: কাজাখস্তান

নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রশ্নে আগামী ১৫ মার্চ গণভোট আয়োজন করতে যাচ্ছে মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান। গণভোটে নতুন সংবিধানের পক্ষে রায় এলে দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ ২০২৯ সালের পরও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেতে পারেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ২০২৯ সালের পর তোকায়েভের প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুযোগ নেই। তবে নতুন খসড়া মৌলিক আইনে এক মেয়াদে সাত বছরের সীমাবদ্ধতা বহাল রাখা হলেও, নতুন সংবিধান কার্যকর হলে তার আগের মেয়াদকে পুরোনো সংবিধানের আওতাভুক্ত হিসেবে গণ্য করে বাতিল ধরা হতে পারে। এতে তিনি পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন।

নতুন সংবিধানের খসড়ায় পার্লামেন্ট কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে দুই কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের পরিবর্তে এক কক্ষের পার্লামেন্ট গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনপ্রণেতার সংখ্যাও কমানো হবে। এছাড়া ১৯৯৬ সালে বিলুপ্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহালের প্রস্তাবও রয়েছে।

সাবেক সোভিয়েত ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক তোকায়েভ ২০২২ সালে নিজ উদ্যোগে এক মেয়াদে সাত বছর প্রেসিডেন্ট থাকার নিয়ম চালু করেন। নতুন সংবিধানেও এই বিধান বহাল রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়া, বেলারুশ ও উজবেকিস্তানের নেতাদের অনুসৃত পথের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ওই দেশগুলোর নেতারাও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিজেদের মেয়াদের সময়সীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছিলেন।

এই গণভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন কাজাখস্তান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও কর বৃদ্ধির চাপে রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

২০১৯ সালে কাজাখস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট নূরসুলতান নাজারবায়েভের উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতায় আসেন তোকায়েভ। শুরুতে নাজারবায়েভের প্রভাব থাকলেও ২০২২ সালের প্রাণঘাতী দাঙ্গার পর তিনি তার পূর্বসূরিকে সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২ শতাংশ উৎপাদনকারী কাজাখস্তান বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন সংবিধানের আওতায় তোকায়েভের পুনরায় ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।