সব আশঙ্কা, অনিশ্চয়তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ইতিহাসের নজীর বিহীন উৎসাহ উদ্দীপনায় শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনের পর ফল গণনাও ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে দেখা যাচ্ছে ভূমিধ্বস বিজয়ের রয়েছে বিএনপি জোট।
রাত ৩টায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বেসরকারিভাবে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৫১ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। যারমধ্যে বিএনপি জোট জয় পেয়েছে ১৮০টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী জোট জয়ী হয়েছে ৬৬ টি আসনে। অন্যান্য দল বিজয়ী হয়েছে বাকি ৫টি আসনে।
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর পর ভোট গণনা চলছে। দেশের কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাত হয়নি। দীর্ঘ দেড় যুগ ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মেটানোর দিনে কোটি কোটি তরুণ-যুবক আর দেশের নাগরিকেরা রক্ত না ঝরিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন বার্তা দিয়ে ভোটকেন্দ্রে রায় প্রদানের এক অনন্য নজির তৈরি করলেন। এমন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ বাংলাদেশ আর কখন দেখেনি, স্মরণকালে গণতান্ত্রিক বিশ্বের উন্নত-অনুন্নত অধিকাংশ দেশেও এমন উদাহরণ নেই।
কিছু উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা গণভোটের ভোটগ্রহণ হয়েছে সারা দেশে। এর আগের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই সাধারণ ঘটনা হলেও এবার এ ধরনের অভিযোগ ওঠেনি। কোথাও ভোট গ্রহণ স্থগিতের খবরও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে ইতিহাসে এ এক অনন্য নজির।
নির্বাচনের এই দিনে সারা দেশে কোথাও কোথাও ভোটারের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও যেমন বড় ধরনের রক্তাক্ত সহিংসতা হয়নি, তেমনি নেই প্রাণহানি, হানাহানির খবর। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ও নির্বাচন কমিশনের তদারকিতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বিঘেœ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের মাঠ থেকে বিশ্ববাদী বাংলাদেশ থেকে একটি বার্তা পেয়ে গেল ৪ কোটি তরুণ ভোটারই শুধু নন, সব বয়সি ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে তাদের রায় দিতে শক্তির প্রয়োজন হয় না; যা গণতান্ত্রিক যাত্রায় বাংলাদেশকে নতুন পথের দিশা দিল। এরই মধ্যে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে।