প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৮:৪১ (শনিবার)
সিলেট-৪ আসনে নতুন হাওয়া: কোয়ারি চালুর দাবি জোরালো

ছবি: সংগৃহীত

‎সিলেট-৪ আসনের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এক সময় সিলেট নগর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার সময় নগর উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার নানা উদ্যোগ আলোচনায় আসে। তবে সময়ের পরিবর্তনে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে একই অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এমপি আরিফুল হক চৌধুরী। ফলে সিলেট-৪ এ তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ।

‎মেয়র হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্ব ছিল নগরভিত্তিক ও সরাসরি সেবামুখী। নাগরিক সমস্যা সমাধান ও অবকাঠামোগত দৃশ্যমান উন্নয়ন ছিল তার অগ্রাধিকার। অন্যদিকে এমপি আরিফুল হক চৌধুরী জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের ওপর জোর দিবেন। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে বড় প্রকল্প আনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

‎মেয়র নির্বাচনে যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল হাড্ডাহাড্ডি, সেখানে এমপি নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান দ্বিগুণেরও বেশি। তিন উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১,৮৬,৮৪৬ ভোট, নিকটতম প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১,৩৯১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১,১৫,৪৫৫ ভোট।

‎রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় ঐক্য, জাতীয় ইস্যু এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

‎সিলেট-৪ আসনের একটি বড় অংশ পাথরসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, বিছনাকান্দি পাথর কোয়ারি, জাফলং পাথর কোয়ারি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকা কারণে হাজারো শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ফলে নতুন নেতৃত্বের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা-পাথর কোয়ারি পুনরায় চালু করা।

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কোয়ারি চালু করা হলে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। অনেকেই মনে করছেন, এমপি আরিফুল হক চৌধুরী যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর উদ্যোগ নেন, তাহলে এই খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

‎এক শ্রমিক নেতা বলেন, ‘আমাদের জীবিকা পাথর কোয়ারির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। নতুন এমপির কাছে আমাদের প্রধান দাবি-কোয়ারি চালু ও স্থায়ী সমাধান।’

‎ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি বেড়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করতে মাঠে সক্রিয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের এই পরিবর্তন শুধু ব্যক্তি বদল নয়, বরং কৌশলগত পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত বহন করছে। ‎প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় সিলেট-৪ এ বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্সভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। অবকাঠামো, পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

‎এখন দেখার বিষয়, এই ‘নতুন হাওয়া’ কতটা বাস্তব উন্নয়নে রূপ নেয়। পাথর কোয়ারি চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন- এই তিনটি ইস্যুই আগামী দিনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

‎মেয়র আরিফুল থেকে এমপি আরিফুল- নেতৃত্বের এই পরিবর্তন সিলেট-৪ এ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জনগণের প্রত্যাশা এখন একটাই- প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন।