প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৯:০৫ (শনিবার)
এ বছর রমজান মাস ২৯ দিনে হওয়ার সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছর পবিত্র রমজান মাস ইসলামী বিশ্বের সব দেশে একই দিনে শুরু নাও হতে পারে। কোথাও ১৮ ফেব্রুয়ারি, আবার কোথাও ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদ দেখার প্রচলিত প্রথা ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার পার্থক্যের কারণেই এ ভিন্নতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা’র চেয়ারম্যান সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেন, রমজানের শুরুতে কিছু দেশে তারিখের পার্থক্য দেখা গেলেও মাসের সমাপ্তি ও শাওয়াল শুরুর ক্ষেত্রে অধিকাংশ মুসলিম দেশ একই তারিখ-২০ মার্চ ধরে নিতে পারে।

তিনি জানান, জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে এ বছর রমজান ২৯ দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই সর্বোচ্চ। পুরো মাসে রোজার সর্বোচ্চ সময় হতে পারে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিট।

আল জারওয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরির রমজানের চাঁদ ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৪টা ১ মিনিটে জন্ম নিলেও সূর্যাস্তের মাত্র এক মিনিট পরেই তা অস্ত যাবে। সে সময় চাঁদের বয়স হবে আনুমানিক দুই ঘণ্টা ১২ মিনিট। ফলে ওই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে খালি চোখে চাঁদ দেখা প্রায় অসম্ভব।

তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি সূর্যাস্তের পর চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিন চাঁদ দেখা গেলে ১৯ ফেব্রুয়ারিকে রমজানের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য করা হবে। সে অনুযায়ী রমজান শেষ হবে ১৯ মার্চ এবং ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে ২০ মার্চ।

তিনি আরও জানান, আবুধাবিতে রমজানের শুরুতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট। ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার সময় থাকবে আনুমানিক ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। মাসের শেষ দিকে দিনের দৈর্ঘ্য বেড়ে প্রায় ১২ ঘণ্টা ১২ মিনিট হবে এবং রোজার সময় দাঁড়াবে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ২৫ মিনিটে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চলে সাহরি ও ইফতারের সময়ে পার্থক্য দেখা দেবে। খোরফাক্কান ও পূর্ব উপকূলীয় এলাকাগুলো সময়ের হিসাবে আবুধাবির তুলনায় প্রায় আট মিনিট এগিয়ে থাকবে। বিপরীতে পশ্চিমাঞ্চলের আল সিলা ও আল ঘুয়েফাত রাজধানীর তুলনায় প্রায় ১২ মিনিট পিছিয়ে থাকবে। ফলে দেশটিতে সাহরি ও ইফতারের সময়ের ব্যবধান সর্বোচ্চ ২০ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে।

আবহাওয়ার প্রসঙ্গে আল জারওয়ান বলেন, মৌসুমি স্বাভাবিকতা অনুযায়ী রমজানের শুরুতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি। মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্তভাবে রমজান শুরুর তারিখ নির্ধারিত হবে। তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব বলছে, এ বছর অধিকাংশ দেশে রোজা শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং ঈদুল ফিতর হতে পারে ২০ মার্চ।