কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক স্বামীকে সিলেট থেকে আটক করা হয়েছে। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা ওই ব্যক্তি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ধরা পড়েন।
র্যাব জানায়, নিহত মহিনা বেগম কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বানিয়ার ভিটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের (৬ ডিসেম্বর) তারা গ্রামের বাড়িতে যান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঋণ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উদ্বেগ ও টানাপোড়েন চলছিল।
গত (১১ জানুয়ারি) রাতে পরিবারের সদস্যরা খাবার শেষে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে নিহতের স্বজনরা ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় স্বামীকে ঘরে পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে নাগেশ্বরী থানায় হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। র্যাব জানায়, এরপর তারা ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী থানা এলাকার কানিসাইল ঈদগাহ মসজিদের পাশ থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ভিতর বন্দ (বানিয়ার ভিটা) গ্রামের রজব আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম বাবলু (৫৫)।
র্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।