প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৮:৪২ (বুধবার)
ফের চালু ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

ছবি: সংগৃহীত

দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবার চালু হলো ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা কমলাপুর বাস ডিপো থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘রয়েল মৈত্রী’র একটি বাস আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশ করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ভিসা জটিলতার কারণে এ বাস সার্ভিস বন্ধ ছিল। দেড় বছরের বেশি সময় পর দুই দেশের মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হলো।

ঢাকা হয়ে আগরতলা–কলকাতা বাস সার্ভিসের জিএম ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, আপাতত সপ্তাহে দুদিন পরীক্ষামূলকভাবে বাস চলবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সপ্তাহে তিনদিন করে নিয়মিত এ পরিষেবা চালু করা হবে।

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতা যেতে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। তবে বাসে ঢাকা হয়ে সেই যাত্রাপথ অনেকটাই কমে আসে। আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে বাসে কলকাতায় যেতে মাত্র প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।

বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। রাজ্য সরকারের পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী রাজ্যের গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। এই বাস পরিষেবা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।

তিনি আরও বলেন, এ পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুশান্ত চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে ভারত সবসময়ই আত্মীয় ও প্রতিবেশী পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো অস্থিরতা বা অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ভারতের মানুষের কাছেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতীতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিলেও বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে উভয় পক্ষই আগ্রহী। ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস পুনরায় চালু হওয়া সেই সম্পর্কেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।