প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৯:২৩ (শুক্রবার)
নিয়ম মানার কঠোর বার্তা দিলেন সিসিকের নতুন প্রশাসক

ছবি: নগর ভবনের প্রধান ফটকে চেয়ার পেতে বসে প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী

সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরাসরি উদ্যোগ নেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি নগর ভবনের প্রধান ফটকে চেয়ার পেতে বসে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিজ হাতে যাচাই করেন।

সকালবেলা নগর ভবনের প্রবেশপথে প্রশাসককে বসে থাকতে দেখে কাজে যোগ দিতে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিস্ময় দেখা যায়। অনেকে সালাম জানিয়ে দ্রুত নিজ নিজ দপ্তরে চলে যান, আবার কেউ কেউ প্রশাসকের পেছনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে থাকেন। সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রশাসকের পাশে বসেন।

সকাল ৯টার পর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নগর ভবনে প্রবেশ করেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সরকারি নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, রমজান মাসে সকাল ৯টার মধ্যে কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ম মেনে সময়ানুবর্তিতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

এরপর সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রশাসক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে যান এবং সেখান থেকে নগর ভবনের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন শুরু করেন। বাজার শাখা, পানি শাখা, প্রকৌশল শাখা ও স্বাস্থ্য শাখা পরিদর্শনকালে তিনি কয়েকটি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেন। এ বিষয়ে অনুপস্থিতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন তিনি।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রশাসক নিজ কার্যালয়ে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে দপ্তর পরিচালনা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিক সেবা আরও গতিশীল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।

পরে গণমাধ্যমকে প্রশাসক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রমজান মাসে সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রথম দিন হিসেবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেইনি। তবে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা। আগামীতে অনুপস্থিতির বিষয়টি বিচার-বিশ্লেষণের আওতায় আনা হবে।’

নতুন প্রশাসকের এই উদ্যোগকে সিলেট সিটি করপোরেশনে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও কর্মসংস্কৃতি জোরদারের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।