ছবি: সিসিক
কঠোরভাবে সিলেট নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমি চাই প্রত্যেক নাগরিক নগরীতে নির্বিঘ্নে চলাচল করবেন। প্রত্যেক নাগরিক যাতে ঘর থেকে বের হয়ে সব কাজ শেষ করে নির্বিঘ্নে পুনরায় ঘরে ফিরতে পারেন সেই নিশ্চয়তা দিতে চাই। চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি কোনোভাবেই বরদাশত করা যাবে না। নগরীর ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা যাবে না। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তনের আশায় বিএনপিকে ভূমিধস বিজয় উপহার দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। আইনশৃঙ্ঘলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, পুরো সিলেট নগরী সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।’ এ ব্যাপারে পরিকল্পনা করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আধুনিক একটি স্মার্ট নগরী গড়া। এই স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা চাই। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশেল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমি চাই পুলিশ আরো বেশি সক্রিয় হবে। আমরাও পুলিশ প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করব।’
দক্ষিণ সুরমার যানজট নিয়ন্ত্রণে যত্রতত্র পার্কিং এবং রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানো-নামানো বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়ি বাসস্ট্যান্ডেই রাখতে হবে। কোনোভাবেই রাস্তায় রাখা যাবে না। যাত্রী উঠানো নামানোও করতে হবে বাসস্ট্যান্ডে।’
মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপি এম। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে পুলিশ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নগরীতে অতিরিক্ত ফোর্স নিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ৫০/৬০ টি ভ্রাম্যমাণ টিম নগরীতে নজরদারি চালাচ্ছে। তিনটি স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি ১৩/১৪টি স্পট চেকপোস্টের মাধ্যমে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নগরী যানজটমুক্ত রাখতে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ। অবৈধ হকার উচ্ছেদে প্রশাসনকে নিয়মিতভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, আনসার-ভিডিপি, সড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, র ্যাব-৯ এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।