ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ওই হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের তথ্য পাওয়া গেলেও শুরুতে ইসরাইলে হতাহতের কোনো খবর প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধীরে ধীরে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরাইলিদের নিহত ও আহত হওয়ার তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে।
রোববার (১ মার্চ) প্রথমে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানায়, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরাইলের দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের বরাতে জানানো হয়, অন্তত ৮৫ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের সংখ্যা প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে আরও মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং পরে নিশ্চিত করা হয়, জেরুজালেমের পশ্চিমাঞ্চলের একটি শহরে ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত আটজন নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের জাতীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানায়, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরের একটি ভবনে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ আহত হন।
এর আগে জেরুজালেমের পশ্চিমে ওই শহরে ইরানি হামলার ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই ঘটনায় একজন অল্পবয়সী মেয়ে এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। এ ঘটনায় অন্তত আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
সব মিলিয়ে সর্বশেষ তথ্যে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৪০০ জন, যার মধ্যে অন্তত ৮৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।