প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৩৯ (সোমবার)
সিলেটের চা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি: যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ভারত উভয় দেশের সঙ্গেই বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে। বিশেষ করে সিলেটের চা শিল্পের আধুনিকায়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ এবং ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্দরগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের চা বাগানে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এ শিল্পের আধুনিকায়ন ও উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে।’ এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে সার কারখানাগুলো সারা বছর চালু রাখতে এলপিজি-ভিত্তিক প্রযুক্তিতে ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে সারাহ কুক বাংলাদেশের ট্রেড নেগোসিয়েশন পুলের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি চা বাগান ছাড়াও সীফুড, লেদার প্রসেসিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আগ্রহের কথা জানান।

দুপুরে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

ভারতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সেফা) নিয়ে কোনো চূড়ান্ত আলোচনা না হলেও বন্ধ থাকা সীমান্ত বন্দরগুলো পুনরায় চালু, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি আদান-প্রদান নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন।