ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধাবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।
জাহাজটি শুক্রবার পণ্য নিয়ে ওই বন্দরে পৌঁছে। শনিবার রাতে জাহাজটির অদূরে মিসাইল হামলা হয়। জাহাজের ৩১ জন নাবিকের সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ।
বিএসসি সূত্র জানিয়েছে, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে নোঙর করা জাহাজটির পণ্য খালাস কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। তবে সোমবার (২ মার্চ) আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় পণ্য খালাস শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএসসি।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়া ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজে ৩১ জন নাবিক-ক্রু আছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে জুম বৈঠক হয়েছে। যখন প্রয়োজন হয় ভিডিও কলে কথা হচ্ছে। সবাইকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাহাজে পানি-খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত আছে। তাদের খরচের জন্য দৈনিক পাঁচ ডলার করে বাড়তি অর্থ দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জাহাজে থাকা পণ্য আজ খালাস শুরু হয়েছে। তবে পণ্য খালাস হলেও জাহাজটি এখন ওই বন্দর থেকে বের হতে পারবে না। কেননা ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এটি চালু না করার পর্যন্ত ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটিকে ওই বন্দরে অবস্থান করতে হবে।”
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘এটি ছাড়াও বিএসসির মালিকানায় থাকা আরও ৬টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাইবেরিয়া, পাকিস্তান, সেনেগাল ও রাশিয়ার বিভিন্ন বন্দরে রয়েছে। এগুলো নিরাপদে আছে।’
গেলো শনিবার রাতে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটির মাত্র ১০০ গজ অদূরে ইরানের মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মিসাইল হামলায় জাহাজে অবস্থান করা নাবিকদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে এ ঘটনার পর নাবিক-ক্রুদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৩১ নাবিক-ক্রু নিরাপদে ফিরতে পারবেন কি-না।