প্রকাশিত : ০৩ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৮ (বুধবার)
দক্ষিণ সুরমা পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী, উন্নয়নে জোর দাবি এম এ মালিকের

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকায় তারেক রহমান-এর শ্বশুর, রিয়ার অ্যাডমিরাল মরহুম মাহবুব আলী খানের বাড়ি পরিদর্শনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিলেট-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণ সুরমা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, `এলাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় গত ১৯ বছরে এখানে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, খেলার মাঠ ও খাল-বিল-সবখানেই চরম অবহেলার চিত্র দেখা গেছে।'

তিনি আরও বলেন, সরেজমিনে অবকাঠামোগত দুরবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। একসঙ্গে সব উন্নয়ন কাজ সম্ভব না হলেও জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। ‘আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ,’-বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ সুরমাকে অবহেলার গ্লানি থেকে বের করে এনে টেকসই উন্নয়নের আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বয়ক কামালউদ্দিন, সিলেট মহানগর প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদের হুইপ জি কে গউস, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বক্তব্য দেন এম এ মালিক। তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ছিল এবং অবকাঠামোসহ মৌলিক খাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি জানান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি প্রতিমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

এম এ মালিক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী পূর্বে সিলেট সফরকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন এবং জেলার ১৮টি আসনে জনগণের সমর্থন সরকারের প্রতি আস্থার প্রমাণ। তবে দক্ষিণ সুরমার বেশ কিছু এলাকা গত প্রায় ১৯ বছর ধরে অবহেলিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংশ্লিষ্টদের আবেদন পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে দক্ষিণ সুরমার উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।