ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে ইরানের নিক্ষেপ করা একটি ড্রোন বিস্ফোরণে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) একটি জাহাজ। বিস্ফোরণস্থল থেকে মাত্র একশ গজ দূরে অবস্থান করছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এতে জাহাজটির ৩১ নাবিক প্রাণে রক্ষা পান।
বিএসসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এই ঘটনা ঘটে। হামলার পর জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। দুই দিন পর আবার খালাস কার্যক্রম শুরু হলেও যুদ্ধসংকুল পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি এখনই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারছে না।
এ ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় বাংলাদেশি পতাকাবাহী আরও তিনটি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজকে নিরাপত্তার স্বার্থে গতি কমানোসহ বিশেষ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মেরিন ট্রাফিক সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের বন্দরগামী বাংলাদেশি তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি কেএসআরএম গ্রুপ-এর এবং একটি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর মালিকানাধীন।
কেএসআরএম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেহেরুল করিম জানান, তাদের একটি জাহাজ ওমানের সালালা বন্দর ও অন্যটি কুয়েতগামী ছিল। তিন-চার দিনের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা থাকলেও ঝুঁকি এড়াতে জাহাজ দুটির গতি কমিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মার্কেন্টাইল শিপিং লাইনসের একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজার খোর ফাক্কান বন্দরে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। তবে নাবিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেই যাত্রা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে জাহাজটি আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিএসসির জাহাজটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মোসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ নোঙর করে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিনই বন্দরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয় এবং পণ্য খালাস স্থগিত রাখা হয়।
জাহাজে থাকা নাবিক আতিকুল হক তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আমাদের জাহাজের মাত্র ১০০ গজ সামনে ইরানি ড্রোন এসে বিস্ফোরিত হয়। আলহামদুলিল্লাহ, জাহাজ ও নাবিকরা অক্ষত আছি।”
আরেক নাবিক স্যাটেলাইট ফোনে জানান, মুহূর্তের জন্য তাদের মনে হয়েছিল জাহাজটিই সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু। ড্রোনের আলো ও বিস্ফোরণের ভয়াল শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই এলাকায় অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবহন খাতেও বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি জাহাজগুলোর চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।