ছবি: সাজু মারছিয়াং
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সবুজবাগে আনন্দ, ভক্তি আর রঙের উচ্ছ্বাসে শুরু হয়েছে দোল উৎসব।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে সবুজবাগ শ্মশানঘাট রোডে অস্থায়ী মন্দিরে পূজার্চনা, কীর্তন ও নগর পরিক্রমার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য উৎসবের। পরে রঙের হাড়ি ভেঙে দোল উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সবুজবাগ দোল উৎসব পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াস দাস।
দোল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি কমিশনার ভূমি মোঃ মহিবুল্লাহ আকন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি সদস্য মোঃ দুরুদ আহম্মদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোঃ মহিউদ্দিন (জারু), মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদল সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন মোঃ জবর আলী রানা, মোঃ জাহেদ আলী।
উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত রঙের উৎসব। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আবির গুলালের রঙিন আনন্দ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ রঙের খেলায় মেতে ওঠেন। ভক্তদের আনন্দধ্বনি আর কীর্তনের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সবুজবাগ এলাকা।
এর আগে সকালে অস্থায়ী মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দোল উৎসবের পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তদের অংশগ্রহণে কীর্তন সহকারে নগর পরিক্রমা বের করা হয়। নগর পরিক্রমাটি সবুজবাগ এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে প্রদক্ষিণ করে আবার মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াস দাস বলেন, ষষ্ঠবারের মতো এই দোল উৎসব আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই আয়োজনকে সুন্দর ও সার্থক করে তুলতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, দোল উৎসব উদযাপন পরিষদের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
উৎসবের সিনিয়র সভাপতি পাপ্পু ধর বলেন, দোল উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এই উৎসব ভালোবাসা ও আনন্দের উৎসব। এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহাদের্যর বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। সবুজবাগের এই আয়োজন সিলেট বিভাগের অন্যতম বড় দোল উৎসব হিসেবে ইতোমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছে।
সবুজবাগ দোল উৎসব পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ঝলক দাশ জানান, ষষ্ঠবারের মতো শ্রীমঙ্গলে সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছে সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দোল উৎসব উদযাপিত হবে। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীর সমাগম ঘটবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি আরও জানান, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবে থাকছে আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হোলি খেলা এবং আগত ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা।