প্রকাশিত : ০৭ মার্চ, ২০২৬ ২১:০৫ (রবিবার)
দমানো যাচ্ছে না মাটি লুটেরাদের: হুমকির মুখে ওসমানীনগরের কৃষি

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠগুলো এখন আর কেবল সোনালি ধানের স্বপ্ন বোনার জায়গা নেই। অসাধু মাটি ব্যবসায়ীদের ভেকু মেশিনের গর্জন আর ভারী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে জনপদের প্রাণ-ফসলি জমি। ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন’ এবং প্রস্তাবিত ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখানে চলছে উপরিভাগের উর্বর মাটি বা ‘টপ সয়েল’ কাটার এক অঘোষিত উৎসব।

উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। ভেকু মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করে কাটা মাটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিচু জমি বা গর্ত ভরাট করতে। কৃষকদের মতে, জমির উপরিভাগের ৮-১০ ইঞ্চি মাটিই হলো ফসলের মূল প্রাণশক্তি, যা একবার সরিয়ে নিলে জমি দীর্ঘমেয়াদে উর্বরতা হারায়।

মাটি কাটার পাশাপাশি মাটিবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়কগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সর্বশেষ গত শনিবার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের খয়েরপুর মসজিদ এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাতেনাতে একজনকে আটক করে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে একটি ভেকু ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।

এর আগে ৩ মার্চ উমরপুর ইউনিয়নের বড় ইসবপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে একজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও মুনমুন নাহার আশা।

কৃষকদের অভিযোগ প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারছি না। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ভেকু মেশিন দিয়ে একযোগে চলে মাটি লুটের মহোৎসব। এভাবে মাটি নিলে আমরা চাষাবাদ করব কীভাবে?

এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা বলেন, আইনের বাহিরে কেউ কোন ধরনের কার্যক্রম করতে পারবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা চলমান থাকবে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বিচ্ছিন্ন জরিমানা বা দু-একজনকে সাজা দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো সম্ভব নয়। এই চক্রের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে ওসমানীনগরের কৃষি ও পরিবেশ অচিরেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।