প্রকাশিত : ০৮ মার্চ, ২০২৬ ২১:১৮ (সোমবার)
সিলেট বিদ্যুৎ প্রকল্পে ‘দ্বৈত বিল’, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই মেগা প্রকল্পে অনিয়ম, দ্বৈত বিল উত্তোলন, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং সরকারি মালামাল গায়েব হওয়ার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে।

প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণ, ৩ হাজার কিলোমিটার পুরনো লাইন সংস্কার, ২২টি জিআইএস সাবস্টেশন ও ৩ হাজার ৪৮৫টি বিতরণ স্টেশন স্থাপন ও সংস্কারের কথা থাকলেও মাঠে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র ৯০০ খুঁটি বসানো হয়েছে, বিপুল পরিমাণ কেবল ও ট্রান্সফরমার গায়েব হয়েছে এবং একই কাজের জন্য একাধিকবার বিল তোলা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হক জিয়া, ছাতক বিউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ ও সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সঙ্গে একাধিক ঠিকাদার ও সিন্ডিকেট। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ঘুষ আদায় করা হয়েছে এবং কিছু অংশ স্থানীয় ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, “হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার পরও মাঠে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যায়নি। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব আর্থিক লেনদেন, মালামালের হিসাব এবং কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই প্রকল্পের অনিয়ম ও ভুয়া বিল উত্তোলন বিষয়ক তদন্ত শুরু করেছে। প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) চন্দন কুমার সূত্রধর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি বলেছেন, কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং লুট হওয়া সরকারি অর্থ উদ্ধার করতে হবে। প্রশ্ন করছেন—জনগণের করের টাকায় নেওয়া এই প্রকল্প কি সত্যিই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করবে, নাকি দুর্নীতির আরেক নজির হয়ে ইতিহাসে জায়গা নেবে।