ছবি: আহমাদুল কবির।
আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড মেনে চলতে মালয়েশিয়া সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক খাইরুল ফিরদাউস আকবর খান। তিনি বলেন, ১৯৫৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর সদস্য হিসেবে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক বাধ্যবাধকতা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ দেওয়ান নেগারায় সিনেটর পুয়ান রিতা সারিমাহ প্যাট্রিক ইনসোলের উত্থাপিত মৌখিক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) দশটি মূল কনভেনশনের মধ্যে মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে সাতটি কনভেনশন এবং সংশ্লিষ্ট একটি প্রোটোকল অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য শ্রমচর্চা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রতিশ্রুতি ১৯৯৮ সালের আইএলও ঘোষণায় বর্ণিত কর্মক্ষেত্রে মৌলিক নীতি ও অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা, যৌথ দরকষাকষির অধিকার, জোরপূর্বক শ্রমের অবসান, শিশুশ্রম নির্মূল এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের সুরক্ষা ও ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার জোরদার করতে সরকার শ্রম আইন সংস্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে ১৯৫৯ সালের ট্রেড ইউনিয়ন আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের স্বাধীনতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে এবং দেশের শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক শ্রমনীতির সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২০ সালের সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৬৭ সালের ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা যৌথ দরকষাকষির অধিকার শক্তিশালী করা এবং মালয়েশিয়ার শিল্পসম্পর্ক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে এবং ন্যায্যতা ও শ্রমিক অধিকার সুরক্ষাভিত্তিক শ্রমব্যবস্থার ওপর বৈদেশিক বাণিজ্য অংশীদারদের আস্থা আরও জোরদার করবে।