দেশে এখন কোনো পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানিতে প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর সুরিয়ারপাড় গ্রামে বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ রউফ জুনিয়র হাইস্কুল মাঠে উপকারভোগীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে জ্বালানি তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট নেই। এ কারণে আপাতত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে সমুদ্রপথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য আমদানিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, অতীত সময়ে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে না পারায় দেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দেয় এবং কর্মসংস্থান কমে বেকারত্ব বেড়ে যায়। বর্তমান সরকার সেই স্থবিরতা কাটিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের আর্থিক সহায়তা সরাসরি নারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হলে তা পরিবার পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং সঞ্চয়ের সুযোগও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সেচ সুবিধার অভাব ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে কৃষি উৎপাদন তুলনামূলক কম। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে এ অঞ্চলেও অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ৬৯৭ জনকে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকাভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৫১৭ জন উপকারভোগীর বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে জমা হওয়ার কথা রয়েছে বলে সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, কয়ছর এম আহমদ এবং কামরুজ্জামান কামরুল।