ছবি: রাহাদ হাসান মুন্না।
মেঘালয়ের কূল ঘেষা সুনামগঞ্জের তাহিপুর উপজেলার মানিগাঁও এলাকায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তর শিমুল বাগান ও যাদুকাটা নদীর তীর কেটে ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১ টায় যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী মানিগাঁও এলাকায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, `দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর তীর ভাঙন দিয়েছে যার ফলে দেশের সর্ব বৃহৎ শিমুল বাগানসহ আশপাশের এলাকার বসত বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। সারা বছর শিমুলবাগান দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক আসেন। শিমুল বাগান আমাদের তাহিরপুর উপজেলাকে সারা বিশ্বের দরবারে পরিচিতি করে দিয়েছে। এই ভাবে প্রতিদিন রাতের আঁধারে পাড় কাটতে থাকলে একদিন সব বিলিন হয়ে যাবে।’
মানববন্ধনে যুবদল নেতা আক্তার হোসেন বলেন, ‘একটি মহল শিমুল বাগান ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে। যারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। তাদের আমরা হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, আপনারা সাবধান হয়ে যান, না হলে জনগণ কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।’
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য-সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শিমুলবাগান রক্ষা করা এখন আমাদের প্রাণের দাবি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি রইল শিমুলবাগান ও যাদুকাটা নদী তীরে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনাম উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘একটি মহল ইজারা বহির্ভূত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে। আমরা তাদেরকে বলে দিতে চাই আপনারা এখনো সাবধান হয়ে যান, না হয় আপনাদের জন্য কঠিন সময় সামনে অপেক্ষা করছে।’
শিমুলবাগানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীনের বড় ছেলে রাখাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা একজন বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন যার কারনে এই বাগানটি গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই শিমুল বাগান আমাদের তাহিরপুর উপজেলাকে সারা বিশ্বে পরিচিত করেছে। আমরা দেখেছি পাড় কাটার জন্য বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদপত্রসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনরকম আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না। তাই প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যাদুকাটা নদী ও শিমুলবাগান এলাকায় পাড় কাটা বন্ধ করা হউক। তা না হলে মানিগাঁও এলাকায় বসত বাড়িঘর ও শিমুলবাগান রক্ষা করা যাবে না।’
এসময় উপজেলার পরিবেশবাদী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।