সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা এলাকায় পিকআপ চালকের হামলায় ট্রাফিক পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। তিন সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) গৌতম দেবকে।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানার একটি মামলায় অভিযুক্ত পিকআপ চালক জুয়েল আহমেদ (৩৫) কে আটক দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার খোজারখলা এলাকার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, বুধবার (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের আম্বরখানা তেমুখী এলাকায় চেকপোস্ট বসানো ছিল। এ সময় সুবিদবাজার এলাকায় একটি পিকআপ দ্রুতগতিতে মদিনা মার্কেটের দিক থেকে আসতে দেখা যায়।
কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সত্যজিৎ দাস গাড়িটি থামানোর সিগন্যাল দিলে চালক তা অমান্য করে গালিগালাজ করতে করতে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে সার্জেন্ট সত্যজিৎ দাস একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে পিকআপটির পিছু নেন এবং একাধিকবার থামার নির্দেশ দিলেও চালক আরও দ্রুতগতিতে বাবনা পয়েন্টের দিকে চলে যায়।
পরে বাবনা পয়েন্ট এলাকায় যানজটের মধ্যে স্থানীয় সিএনজি চালক ও জনতার সহায়তায় পিকআপটি থামানো সম্ভব হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা চালককে মারধর শুরু করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে লাউয়াই পুলিশ বক্সের পেট্রোল ডিউটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিকআপ চালক জুয়েল আহমেদ হঠাৎ উঠে ট্রাফিক বিভাগের এএসআই (নিঃ) অরুন চন্দ্র কৈরীর ডান গালে ঘুষি মেরে আহত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সময় চালকের পক্ষ নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং কর্তব্য পালনে বাধা দেয়।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে একতরফাভাবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।