প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৬ ২১:৫৩ (রবিবার)
মালয়েশিয়ায় ৩০ এপ্রিল শেষ হচ্ছে অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি

ছবি: আহমাদুল কবির।

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে বৈধভাবে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চালু করা মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০ আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় ও সুশৃঙ্খলভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চালু করা এই কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী বিদেশিরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গিয়ে তাদের অবস্থানের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ছাড়াই তারা স্বদেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেছেন `যারা এখনো এই কর্মসূচির আওতায় আসেননি, তাদের দ্রুত সুযোগটি গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

বিভাগটি আরও জানিয়েছে, কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সারা দেশে ইমিগ্রেশন আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

মালয়েশিয়া সরকারের মতে, এই কর্মসূচি দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ। এটি মালয়েশিয়া মাদানি ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই আরও অনেক অবৈধ অভিবাসী এই সুযোগ গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাবেন এবং এতে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে।

এ কর্মসূচীর আওতায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে সমস্যাগ্রস্ত বিদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরে ভিড় করছেন। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক অভিবাসী শ্রমিক ২.০ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে ঈদের আগে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সেনাওয়াংয়ে অবস্থিত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ অফিসে দেখা যায়, সকাল ৮টায় অফিস খোলার কথা থাকলেও বিদেশি নাগরিকরা সকাল ৭টা থেকেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।

এই ‘পেমুতিহান’ বা বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে যেসব বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে- যেমন বৈধ পাস না থাকা বা নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা- তাদের কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো মামলা ছাড়াই স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

একজন বিদেশি শ্রমিক জানান, তার কাজের পাস নিয়ে সমস্যা রয়েছে। পিআরএম কর্মসূচির কথা জানার পর তিনি ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনিথ থান আই কিয়াং জানান, এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পিআরএম ১.০ চালু ছিল মার্চ ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত, আর পিআরএম ২.০ চলবে মে ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত।’

তিনি আরও বলেন, আমাদের ধারণা অনুযায়ী, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের অনেক বিদেশি নাগরিক ঈদের আগে দেশে ফেরার জন্য এই সুযোগটি ব্যবহার করবেন। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আমাদের অফিসে আগত মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে এবং গত দুই সপ্তাহে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, সেনাওয়াংয়ের ইমিগ্রেশন অফিসে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাউন্টার খোলা থাকে এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়।

তবে গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ১৮০ জন পর্যন্ত ‘ওয়াক-ইন’ গ্রাহক আসছেন পিআরএম কর্মসূচিতে অংশ নিতে। ফলে কর্মীদের রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিদেশি নাগরিকদের কিছু শর্ত মানতে হবে। তাদের অবশ্যই বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং আবেদন করার ১৪ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরার টিকিট থাকতে হবে।

এছাড়া বিভিন্ন ধরনের জরিমানাও নির্ধারণ করা হয়েছে: বৈধ পাস না থাকা বা অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে, ৫০০ রিংঙ্গিত, পাসের শর্ত ভঙ্গ করলে ৩০০ রিঙ্গিত, বিশেষ পাসের জন্য রিঙ্গিত।  

তিনি আরও জানান, শুধু নেগেরি সেম্বিলান নয়, অন্যান্য রাজ্য থেকেও অনেক বিদেশি শ্রমিক সরাসরি (‘ওয়াক-ইন’) এই অফিসে আসছেন। তাদের অধিকাংশই সেলাঙ্গর ও কুয়ালালামপুর থেকে এসেছেন।

মালয়েশিয়ার রাস্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার এক তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায়, দেশে ফিরতে নিবন্ধন করেছেন, প্রায় ১,৭৭,০০০ জন অভিবাসী। এর মধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন, ১,০০,০০০-এর বেশি অভিবাসী।  সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি।