ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালের অলিম্পিক। তবে নতুন এক প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই আসরে চাইলেও উপস্থিত থাকতে নাও পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থা বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) এমন একটি নিয়মের প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যা বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ২০২৮-এ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হতে পারে। এমনকি এ সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কেও প্রভাবিত করতে পারে।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াডা আগামী মঙ্গলবারের সভায় যেসব দেশ সংস্থাটির বকেয়া সদস্যপদ ফি পরিশোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
ওয়াডার দাবি, গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৭৩ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। কিন্তু ওয়াডার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক বছর ধরে সংস্থাটিকে বার্ষিক চাঁদা দেয়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর প্রশাসনের সময় এই অবস্থান শুরু হয় এবং বর্তমানে তা বহাল রেখেছেন ট্রাম্প।
ওয়াডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের সূত্রপাত ২০২১ সালের এক ঘটনার পর। সে সময় নিষিদ্ধ ড্রাগ পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়া ২৩ জন চীনা সাঁতারুকে শাস্তি না দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখার অভিযোগ ওঠে ওয়াডার বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও চীনের প্রতি পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে যুক্তরাষ্ট্র।
এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সদস্যপদ ফি আটকে দেয়। সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প একটি আইনে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে ওয়াডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ প্রদান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ও ওয়াডা হুঁশিয়ারি দেয়, ২০৩৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। পরে অলিম্পিক আয়োজন ধরে রাখতে ইউটা কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ শর্তে সই করতে বাধ্য হয়।
তবে ওয়াডার সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাহুল গুপ্ত মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো শুনিনি যে মাত্র পাঁচ কোটি ডলারের বাজেটের একটি ফাউন্ডেশন এমন কোনো নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কোথাও যেতে বাধা দেবে।’