প্রকাশিত : ১৬ মার্চ, ২০২৬ ২১:০০ (মঙ্গলবার)
খাল খননে জলাবদ্ধতা কমবে, বাড়বে ফসল উৎপাদন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের চম্পাতলী খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যা প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের অনেক কৃষিজমি শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধার অভাবে একটি ফসল থেকে বঞ্চিত হয়। আবার কিছু জমিতে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হলে এসব জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করা যাবে।

তিনি জানান, প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ১৫০০ বিঘা বা প্রায় ২০০ হেক্টর কৃষিজমি উপকৃত হবে। খালের পানি ধারণক্ষমতা বাড়ার ফলে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং নদীতে প্রবাহের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। খালের দুই পাশে সড়ক নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পর প্রথম বছরেই এর সুফল মানুষ অনুভব করতে পারবে। বর্ধিত ফসল উৎপাদন, বন্যা প্রতিরোধ এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো অঞ্চল উপকৃত হবে।’

এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে দামের কিছু পার্থক্য স্বাভাবিক হলেও তা যেন অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না যায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। ঈদের পর নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান চিহ্নিত করতে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হবে।

বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এবং উন্নত দেশগুলিও এর বাইরে নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ রপ্তানির তুলনায় বেশি, যা একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন  সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসীনা রুশদীর লুনা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে একই দিনে দুপুর ১২ টায় উপজেলার নাটকিলা খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ূন কবির বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পরিবেশ ধ্বংস বা খাল-বিল দখলের মতো কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং দখলদারদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, খাল খনন একটি ঐতিহাসিক কর্মসূচি, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। বর্তমানে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।