মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদে। কেউ দেশে এসেও ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায়, আবার কেউ ফ্লাইট অনিশ্চয়তায় দেশে আসতেই পারছেন না।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। এর ফলে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবাসীরা ঈদকে ঘিরে পড়েছেন অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় নিয়মিত ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে দুবাই ও কাতারসহ ট্রানজিটনির্ভর রুটগুলোতে বেশি প্রভাব পড়েছে।
কারণ, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সিলেটে আসতে হলে অধিকাংশ যাত্রীকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ট্রানজিট নিতে হয়। এসব রুটে ফ্লাইট অনিয়মিত হয়ে পড়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না।
তবে সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাময়িক বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, আকাশসীমাজুড়ে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু আছে।
এদিকে, দেশের প্রধান বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব স্পষ্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) আরও ২৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণেই এসব ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সিলেটের প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা। কেউ দেশে এসে ফেরার অনিশ্চয়তায় আছেন, আবার কেউ দেশে আসার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।
সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা, কাতার প্রবাসী সাদ্দাম হোসেইন বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দেশে এসেছেন। তবে ফেরার সময় ফ্লাইট পাওয়া এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে কিনা, তা নিয়ে তিনি শঙ্কায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, চৌকিদেখি এলাকার যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুর রহমান জানান, তিন বছর আগে লন্ডনে যাওয়ার পর এবার দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ট্রানজিট জটিলতা, ফ্লাইট বাতিল এবং ফেরার অনিশ্চয়তা থাকায় শেষ পর্যন্ত দেশে আসা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ঈদ সামনে রেখে সিলেট নগরের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা গেলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী নিয়মিত অর্থ পাঠাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারে।