পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অবস্থানরত প্রায় ৮১ হাজার বন্দি এবারের ঈদ উদযাপন করছেন বিশেষ ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। বন্দিদের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে কারা অধিদপ্তর নিয়েছে নানা উদ্যোগ, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ।
কারা সূত্র জানায়, বন্দিদের জন্য ঈদের দিন তিন বেলা বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকালে পরিবেশন করা হবে পায়েস বা সেমাই ও মুড়ি। দুপুরের খাবারে থাকবে সাদা ভাত, গরুর মাংস, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস, মুরগির রোস্ট, আলুর দম ও রুই মাছ। পাশাপাশি পান ও সুপারিও দেওয়া হবে।
ঈদের দিন কারাগারের ভেতরে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে। বন্দিদের মধ্য থেকেই যারা শিল্পী রয়েছেন, তারা গান পরিবেশন করবেন। পাশাপাশি বাছাইকৃত বন্দিদের নিয়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচও আয়োজন করা হবে।
বন্দিদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হিসেবে থাকছে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে বন্দিরা একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। একইসঙ্গে তারা একবার পাঁচ মিনিট করে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন। সাধারণ সময়ে যেখানে ১৫ দিন পর পর সাক্ষাতের সুযোগ থাকে, সেখানে ঈদ উপলক্ষে এই বিশেষ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারাগারে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্যও আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কারাগারের বাইরে তাদের চকোলেট ও জুস দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে।
এদিকে, অর্ধেকের বেশি সাজা ভোগ করা পাঁচজন বন্দিকে ঈদ উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত হিসেবে কারাভোগ করছিলেন। বিশেষ বিবেচনায় সরকার তাদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সিলেট কারাগার থেকে এ বছর কেউ মুক্তি পাননি।
তিনি আরও জানান, দেশের সব কারাগারেই একইভাবে এই আয়োজন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে বন্দিরা উৎসবের আনন্দ কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারেন।
এদিকে, কারাগারগুলোতে থাকা বন্দিদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিন্ন বাস্তবতায় হলেও ঈদের দিনে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাইকে সমানভাবে উৎসবের অংশীদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।