ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায়বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটিরমৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিতবিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (MC14)--এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন।
‘WTOReform: Fundamental Issues’ শীর্ষক এ অধিবেশনেখন্দকার মুক্তাদির বলেন, ‘WTO-এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তিরনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাউন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে ‘
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্তদেশ সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্তবাজার প্রবেশাধিকার, এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (LDCs)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারিরসময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।’
তবে WTO সংস্কারের প্রয়োজনীয়তারকথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্তনা করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘WTO সংস্কার প্রক্রিয়াঅত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে, পূর্বের অর্জনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সকল সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিতকরা যায়।’
উল্লেখ্য, মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সদস্য দেশসমূহ বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এবারের সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্যদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরএর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নিচ্ছেন।