ছবি: আহমাদুল কবির।
মালয়েশিয়ায় চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দেশটির শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে চরম গরমকে একটি প্রাণঘাতী পেশাগত ঝুঁকি হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তীব্র তাপদাহের সময় বাধ্যতামূলকভাবে কাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
ইউনিয়নগুলোর মতে, বর্তমানে যে স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয় এবং এর ফলে বহিরাঙ্গনে কর্মরত লক্ষ লক্ষ শ্রমিক যথাযথ সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিল্ডিং অ্যান্ড উডওয়ার্কার্স ইন্টারন্যাশনাল- মালয়েশিয়া লিয়াজোঁ কাউন্সিল শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানায়, দেশে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ চলছে এবং উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলতি বছরে ইতোমধ্যে তাপজনিত অসুস্থতার ১৫টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ জনগণকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও নির্মাণ, কৃষি এবং পি-হেইলিং খাতের শ্রমিকদের জন্য তা সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে কাজ করায় তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও জনস্বাস্থ্য আলোচনায় তাদের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।
ইউনিয়ন জোটটি ২০১৬ সালে প্রণীত পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের (ডিওএইচএস) নির্দেশিকাকে প্রশংসা করলেও এটিকে শুধুমাত্র পরামর্শমূলক হিসেবে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এসব নির্দেশিকার আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় তা বাস্তবায়ন পুরোপুরি নিয়োগকর্তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা একটি সমন্বিত জাতীয় তাপ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা থাকবে।
ইউনিয়নগুলো আরও বলেছে, নিরাপত্তার কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হলে শ্রমিকদের যেন মজুরি কাটা না হয়, সে জন্য আইনগতভাবে ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনের উদাহরণ তুলে ধরে তারা ঠিকাদারদের জন্যও আইনি সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে, যাতে তাপদাহের কারণে কাজ বন্ধ থাকলে প্রকল্প বিলম্বিত হওয়ার জন্য তাদের আর্থিক জরিমানা না দিতে হয়।
এছাড়া, বহিরাঙ্গনে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল এবং উপযুক্ত শীতলীকরণ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইনের উদাহরণ উল্লেখ করে তারা বলেছে, সেখানে তাপ নিরাপত্তা বিষয়ে আইনগতভাবে কার্যকর নির্দেশনা রয়েছে, যা মালয়েশিয়ার জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
ইউনিয়ন জোটটি জোর দিয়ে বলেছে, এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং নতুন নীতি প্রণয়নে শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
‘মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা আমরা জানি, জীবনরক্ষাকারী জলবায়ু অভিযোজন নীতি প্রণয়নে আমাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’, বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।