ছবি: লিয়াকত আলী
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত নদী জাদুকাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় বালুধসে লিয়াকত আলী নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) ভোররাতে জাদুকাটা নদীর পশ্চিম তীর কেটে খনিজ বালু উত্তোলনের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত লিয়াকত আলী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের সিরাজপুর বাগগাঁও গ্রামের মৃত কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে।
সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল) প্রণয় রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, একই ঘটনায় আরও দুই শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র, নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, জাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড়ের বাঁশবাগান এলাকায় ইজারাবহির্ভূত স্থানে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন চলছিল। উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের চাঁনমিয়ার ছেলে মুসালমের নেতৃত্বে মাছুম, গড়কাটি ও লাউরগড় এলাকার পাঁচ থেকে সাতজনের একটি প্রভাবশালী চক্র শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অর্ধশতাধিক শ্রমিক দিয়ে এ কাজ পরিচালনা করে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের ইদ্রিছের ছেলে শ্রমিক সর্দার জাহাঙ্গীর এবং একই গ্রামের ছাদেকের ছেলে নাদিমের মাধ্যমে শ্রমিকদের দিয়ে ছোট ছোট স্টিলবডি ট্রলারে করে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।
এ সময় ভোররাতে হঠাৎ নদীপাড় ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন লিয়াকত আলী এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দুই শ্রমিক।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরপরই পুলিশকে না জানিয়ে মুসালম চক্রের সদস্যরা গোপনে লাশ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। শ্রমিক সর্দার জাহাঙ্গীর ও নাদিমের নেতৃত্বে ট্রলারে করে লাশ ঘটনাস্থল থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে দুপুরে তাহিরপুর থানার এসআই পংকজ দাশ বিশ্বম্ভরপুরের সিরাজপুর বাগগাঁও গ্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
অভিযোগের বিষয়ে মুসালম দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।
এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ আলম তুলিপ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শ্রমিকদের অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা, বালুধসে মৃত্যু এবং পরবর্তীতে লাশ গোপনে সরিয়ে ফেলা-এসবই আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ, যা হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সঠিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।