ছবি: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-এর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে এ আহ্বান জানান।
ক্যামেরুনের ইয়াউন্দে শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা জরুরি। এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি জোর দাবি জানান।
সম্মেলনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন (২৭ ও ২৮ মার্চ) বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও দুই-স্তরবিশিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। বিশেষ করে আপিল সংস্থার কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঐকমত্যভিত্তিক পদ্ধতি থেকে সরে গেলে বিদ্যমান বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ক্ষতিকর হবে।
মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অবদান প্রায় শূন্য হলেও বড় মৎস্য শিকারি দেশগুলোর কারণে সামুদ্রিক সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে তিনি বৃহৎ দেশগুলোর ভর্তুকির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র জেলেদের জন্য পূর্ণ অব্যাহতির দাবি জানান।
কৃষি খাতের বিষয়ে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে সরকারি মজুত কর্মসূচি বজায় রাখা এবং উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য বিকৃতকারী ভর্তুকি বন্ধের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বে বাংলাদেশ ‘বিনিয়োগ সহায়তা উন্নয়ন চুক্তি’-তে ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। এটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ। এ পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানিয়েছে।
মেধাস্বত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ব্যবস্থার ওপর স্থগিতাদেশ পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা রক্ষায় এর স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
পরিশেষে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিভাজন ও একতরফা পদক্ষেপের ফলে স্বল্পোন্নত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে একটি সমতাভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।