প্রকাশিত : ০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১৯ (বুধবার)
তাহিরপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

ছবি: মো. হাসিবুল তারেক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আনসার (ভিডিপি’র) প্রশিক্ষক এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন কমান্ডার পদে সুপারিশের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন এক প্রার্থী। 

লিখিত অভিযোগপত্রে বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের পুরান খালাস গ্রামের আমির আলী বলেন, `তাহিরপুর উপজেলা প্রশিক্ষক মো. হাসিবুল তারেক উক্ত ইউনিয়ন কমান্ডার পদে আমার নাম সুপারিশ করার বিনিময়ে আমার নিকট হতে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবি করেন। এতে আমি টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করি। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশবশত আমি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও আমার নামটি তালিকাভুক্ত করেননি ও আমার কাগজপত্র জেলায় পাঠানো হয়নি।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তার এহেন অনৈতিক অর্থ দাবি এবং দুর্নীতির কারণে আমার মতো ত্যাগী ও অভিজ্ঞ সদস্য আজ চরমভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত। তার এই কর্মকান্ড আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সুনাম ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করছে বলে আমি মনে করি। আমি দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে অগ্নিনির্বাপণ, রাস্তা মেরামত, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া কৃষকের ধান কাটাসহ উপজেলার টাঙ্গুয়ার  হাওরে অবৈধ জাল জব্দ করা থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ অভিযানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছি। আমার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের বিনিময়ে ইউনিয়ন আনসার কমান্ডার পদে আমার নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়ে আমি জোরালো দাবিদার ছিলাম। কিন্তু টাকা দিতে না পাড়ায় আমি উল্টো চিত্র দেখতে পেলাম। এমনকি অভিযুক্ত প্রশিক্ষক আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তুমি আমার বিরুদ্ধে যা পার তাই করো গিয়ে। এই কথা বলে তিনি আমাকে আনসার ও ভিডিপি অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।’

প্রতিবেদককে আমির আলী বলেন, ‘তাহিরপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সালমা বেগম শুধুমাত্র একজনের কাগজপত্র পেয়ে  অভিযুক্ত মো. হাসিবুল তারেককে জিজ্ঞাসা করে বলেন, আরো কোন আগ্রহী প্রার্থী আছেন কি না এমন প্রশ্ন করলে তিনি নির্দিধায় বলেন আর কোন প্রার্থী নেই।’ অথচ উক্ত অভিযোগকারীর কাগজপত্র জমা রাখা সত্বেও অভিযুক্ত প্রশিক্ষক নিজ স্বার্থের কারণে ইউনিয়ন কমান্ডার পদে তালিকাভুক্ত করেননি।’    

উপজেলা প্রশিক্ষক মো. হাসিবুল তারেক বলেন, ‘আমি যে প্রার্থীর কাগজপত্র তালিকাভুক্ত করে পাঠিয়েছি তিনি ছয় মাসে পূর্বে যোগাযোগ করে আমার কাছে কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, আর যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি ১৫ দিনে আগে জমা দিয়েছিলেন। আমি কোন টাকা পয়সা চাইনি এটা সম্পন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।’

তাহিরপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, ‘ইউনিয়ন কমান্ডার পদে তালিকাভুক্তি করনের পূবে আমি অন্য উপজেলায় কর্মরত ছিলাম, আমি এখানে নতুন এসেছি। তবে এই বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।’

সুনামগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট (উপপরিচালক) মো. সুজন মিয়া বলেন, ‘ইউনিয়ন কমান্ডার পদে তালিকাভুক্তি করনে যদি কোন রকম অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা সহ উক্ত তালিকা বাতিল করে পুনরায় তালিকা ভুক্তকরা হবে।’