প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫১ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত: ১৪ ঘন্টা বন্ধ যোগাযোগ, তেল লু/ট ঠেকাতে বিজিবি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সকাল (২ মার্চ) ১১টার দিকে দেখা যায়, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলো সরিয়ে লাইন মেরামতের কাজ চলছে। এদিকে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ার পর লুটপাটের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার রাত প্রায় ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটি মাধবপুরের মনতলা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে। ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে একাধিক বগি পাশের জমি, সড়ক ও খালে ছিটকে পড়ে। এতে ছড়াতে শুরু করে তেল, যা দেখতে ভোরের পর আশপাশের মানুষ জড়ো হন এবং কেউ কেউ তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সেখানে যায় এবং উদ্ধার কাজের পাশাপাশি তেল লুট বন্ধে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির আহমেদ জানান, লাইনচ্যুতির কারণে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসসহ তিনটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট সংরক্ষণ করে ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তার ভাষায়, উদ্ধার কাজ দ্রুত এগোলেও রেল চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।

সিলেটমুখী যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে স্টেশনে আটকা পড়ায় ভোগান্তি বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি, তবে লাইনচ্যুতির কারণে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান গনি জানান, রেলের বিশেষজ্ঞ দল সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে কাজ করছে এবং বিকেলের মধ্যে আংশিক চলাচল চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, তেলবাহী বগিগুলোর মধ্যে দুটি ক্রেন দিয়ে সোজা করা হয়েছে এবং আরও দুটি তুলতে কাজ চলছে। একটি বগি সেতুর নিচে পানিতে পড়ে থাকায় সেটি তুলতে সময় লাগবে। তিনি জানান, রাত থেকেই বিজিবি সেখানে মোতায়েন আছে এবং তেল লুটপাট বন্ধসহ নিরাপত্তা কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছে। বিজিবির সদস্যরা ছড়িয়ে পড়া তেলের মধ্যে প্রায় এক হাজার লিটার সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) নাজমুল হক বলেন, একটি বগি নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ কিছুটা জটিল হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চারটি বগি এবং রেললাইন মেরামতের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে উদ্ধারকাজ শেষ হবে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

সকালে কালনি এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় ছাড়তে না পারলেও পরে সকাল ৯টায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে আসা পারাবত এক্সপ্রেস আজমপুর স্টেশনে আটকা রয়েছে। শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার লিটন চন্দ্র দে জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত দু’টি বগি উদ্ধার করা গেছে এবং সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে।