ছবি: সংগৃহীত
বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা পুনরায় সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ২০টি অধ্যাদেশ চলতি সংসদ অধিবেশনে অনুমোদন না পাওয়ায় বাতিলের পথে রয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা-সম্পর্কিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন করা হবে না; পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে নতুনভাবে বিল আনা হবে। অন্যদিকে বাকি ১১৩টির মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংসদ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০টি অধ্যাদেশ অনুমোদন না পাওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা শেষে সেগুলোর কার্যকারিতা লোপ পাবে। আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে বলে জানা গেছে।
বিশেষ কমিটি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত হয়। ১৩ সদস্যের এ কমিটিতে ১০ জন বিএনপির এবং তিনজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য রয়েছেন। কমিটি তিনটি আনুষ্ঠানিক ও একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। তবে ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।
এদিকে যেসব অধ্যাদেশ বাতিলের পথে রয়েছে, তার বেশিরভাগই অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে জারি করা হয়েছিল। ফলে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারালে সরকারের সংস্কার উদ্যোগে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়েও নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে বিচারপতি নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং এটি সংস্কারের চেতনার পরিপন্থি।
সব মিলিয়ে অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।