প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:৫৬ (রবিবার)
সিলেটের সড়কে একমাসে ঝড়েছে ৩৬ প্রাণ: আ/হ/ত ৭২ জন

সিলেট নগরীর সড়কে গত মার্চ মাসে ঘটানো দুর্ঘটনার চিত্র আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পুলিশ ও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল জানিয়েছে, মাসজুড়ে ৩৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত ও ৭২ জন আহত হয়েছেন।

জাতীয় পর্যায়ে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে একই সময়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৬৮২ জন নিহত ও ১৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ২২২টি, এতে ২৩৭ জন নিহত এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। এটি মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ এবং আহতের ১২.৭২ শতাংশ।

সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বা আহতদের মধ্যে রয়েছে ৯ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবি, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

নিহতদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ, ১ জন আনসার, ১ জন বিজিবি, ১ জন ফায়ার সার্ভিস, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু, ৬৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবি, ৩ জন প্রকৌশলী ও ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী দেখা গেছে, ২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস, ১৪.৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৭.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৮.৪১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৭.৪৮ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় জড়িত হয়েছে।

সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা, ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭.১৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছানো এবং ০.৯৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

অঞ্চলভিত্তিকভাবে দেখা গেছে, মার্চে মোট দুর্ঘটনার ৪০.৯০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.০৭ শতাংশ ফিডার রোডে এবং ৫.৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।