ছবি: প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য (শরীয়তপুর-২) সফিকুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘দুবাইসহ এশিয়ার উন্নত দেশগুলোতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সরকারের একার পক্ষে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। এ কারণে বেসরকারি খাতকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।’
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে দেড় কোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন। এসব প্রবাসীর মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৫১৯ জন কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬২ হাজার ৩৫২ জন নারী কর্মী রয়েছেন।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সিন্ডিকেটভিত্তিক সীমিত কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে আগ্রহী নয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সব যোগ্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখতে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বারী সরদারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে নারী কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে তারা প্রয়োজনের সময় দ্রুত পরিবার, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন।