প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৪৩ (বৃহস্পতিবার)
‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে সমালোচনায় মেরিল স্ট্রিপ

ছবি: মেরিল স্ট্রিপ

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এবার সেই সমালোচনায় যোগ দিলেন হলিউড অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আইনটি পাস হলে বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা ভোট দিতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।

১ এপ্রিল প্রচারিত  ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সঞ্চালক স্টিফেন কোলবার্ট জানতে চান- কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে কি, যা নিয়ে কথা বলা হয়নি। জবাবে স্ট্রিপ ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্ট্রিপ বলেন, ‘যেসব বিবাহিত নারী বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ভোটার তালিকার নাম ও জন্মসনদের নাম না মিললে প্রমাণ দিতে হবে—তাঁরাই সেই ব্যক্তি।” তিনি আরও বলেন, “নভেম্বরে ভোট দিতে গেলে নাম না মিললে অনেককে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।’

তার বক্তব্যের সময় স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে ‘বু’ ধ্বনি শোনা যায়, যা কিছুক্ষণের জন্য তাঁর কথা থামিয়ে দেয়।

যদিও তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যে আইনটির প্রভাব নিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ উঠে আসে। স্ট্রিপ বলেন, এ ধরনের আইন নারীদের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি করবে এবং তাঁদের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়। প্রস্তাবিত আইনে ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আগের স্বঘোষণার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। যাঁদের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্মসনদ ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখাতে হবে- যা বিবাহের পর পদবি পরিবর্তন করা নারীদের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।

তবে বিলটি এখনো সিনেটে আটকে রয়েছে। এটি পাস করাতে ৬০ ভোট প্রয়োজন, ফলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেতে সংশোধনের উদ্যোগ চলছে।

একই দিনে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট (মেইল-ইন ব্যালট) নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন। একটি নির্বাহী আদেশে তিনি ‘যাচাইকৃত’ ভোটার ছাড়া অন্য কারও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার নির্দেশ দেন।

এর আগেও ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব ছিলেন স্ট্রিপ। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পের অনুকরণে ব্যঙ্গাত্মক পরিবেশনা করেন এবং ২০১৭ সালে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এক প্রতিবন্ধী সাংবাদিককে ব্যঙ্গ করার ঘটনায় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন।