ছবি: সংগৃহীত
পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন শেখ ফরিদুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সচিবালয়ে ‘পাহাড় ও টিলা কাটা বন্ধে করণীয় নিরূপণ’ শীর্ষক এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘খাগড়াছড়িতে তিন মাসে আট পাহাড় বিলীন’ শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে পরিবেশ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় জানানো হয়, খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সদর উপজেলার খাড়িছড়া মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে দুটি এক্সকেভেটর জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী এলাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন ও বাটনাটলীতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি ভোলাগঞ্জ শাহ-আরেফিন টিলা এলাকায় অভিযানে ১০টি পাথর উত্তোলন যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস করা হয় এবং তিনটি পাথরবোঝাই ট্রাক জব্দ করে অকেজো করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড় কাটায় এক্সকেভেটর ব্যবহারের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে এক্সকেভেটর ব্যবহারে স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে।
তিনি জানান, ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটির উৎস যাচাই ছাড়া কোনো অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং কৃষিজমির মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে পাহাড় ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।