প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:০৬ (রবিবার)
সিলেট-আখাউড়া রেলপথ: ৮ বছরে ১৬ দুর্ঘটনায় আতঙ্কে যাত্রীরা

ছবি: সাজু মারছিয়াং

সিলেট-আখাউড়া রেলপথ-এ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ট্রেন দুর্ঘটনা। গত আট বছরে এই ১৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে অন্তত ১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় চলাচলকারী এই রেললাইনে নাট-বোল্ট, ফিশপ্লেট, ক্লিপসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের সংকট রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া লাইনের পাথর না থাকা, পুরোনো ইঞ্জিন ও কোচ, সিডিউল বিপর্যয় এবং লাইনচ্যুতির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ফলে যাত্রীসেবার মান দিন দিন অবনতি হওয়ায় অনেকে রেলপথে ভ্রমণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথটি ১৮৯১ সালে ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে নির্মিত হয়। পরে ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটে কালনি, জয়ন্তিকা, পারাবত ও উপবন এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস চলাচল করছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে লোকো ইঞ্জিন সংকটের কারণে ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময় বিশ্রাম পায় না। ফলে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। এতে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক সিডিউল বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।

২০১৯ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কুলাউড়া, ফেঞ্চুগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, বাহুবলসহ বিভিন্ন স্থানে লাইনচ্যুতি, ইঞ্জিন বিকল ও দুর্ঘটনার কারণে বারবার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল হবিগঞ্জের মনতলা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনের ছয়টি ট্যাঙ্কার লাইনচ্যুত হয়ে প্রায় ১১ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এছাড়া গত এক মাসেই অন্তত ৪০টি ট্রেন ইঞ্জিন বিকলের কারণে বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, শত বছরের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ব্যবহার করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে টিকিট সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নিয়মিত বিলম্ব যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, একের পর এক দুর্ঘটনার পরও এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সংস্কারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সিলেট, কুলাউড়া, শমশেরনগর, শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্টেশনে আন্দোলন হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত রেললাইন সংস্কার, আধুনিক ইঞ্জিন সংযোজন এবং নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।