ছবি: শাহ মাশুক নাইম।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ও গ্রহণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠ। খেলাধুলা মানুষের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক বিকাশসহ বিভিন্নভাবে শিখতে এবং বেড়ে উঠতে সাহায়তা করে। তেমনি খেলাধুলার অভাবে শিশু-কিশোর ও যুককরা ঝুঁকে পড়ছে মোবাইল গেমস, অনলাইন জুয়া ও মাদকদ্রব্যে। এতে অভিভাবকরা যেমন আতঙ্কিত তেমনি, সমাজের সুশীল নাগরিকরাও শঙ্কিত।
মহব্বতপুর বাজার এলাকা প্রতিষ্ঠানের দিকে কিছু উন্নতি হলেও আশ্চ্যর্যের বিষয় হলো, এই সব প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর শরীরচর্চা বা খেলাধুলার জন্য নেই কোন নিজস্ব খেলার মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে একটি খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকার কিশোর, তরুণ ও সর্বস্তরের জনগন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর বাজার এলাকা একটি কৃষি সম্বৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। শিক্ষা-দীক্ষায় মোটামুটি এগিয়ে থাকলেও খেলাধুলার দিকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে, শুধু একটি খেলার মাঠের জন্য।
জনমত জরিপে জানা যায়, মহব্বতপুর, মুহাম্মদপুর, শিমুলতলা, কাওয়ারঘর, সুন্দরপই, বরকতনগর, গুজাউড়া, খাগুরা, জিয়াপুর, টিলাগাঁও, গিরিশনগর, ইসলামপুর, রাজনগর, মারপশীসহ প্রায় ১৮ টি গ্রামের মধ্যে নেই উপযুক্ত কোন খেলার মাঠ। শিশু-কিশোর ও যুবকদের বাড়ির আশ-পাশে যেখানে একটু ফাঁকা, খালি জায়গা পান, অবসর সময়ে তারা, ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডিসহ বিভিন্ন প্রকারের খেলাধুলা ব্যস্ত থাকেন। আবার খেলার মাঠ না থাকায় শিশু-কিশোর, যুবকরা খেলাধুলা থেকে সুবিধাবঞ্চিত হয়ে ঝুঁকে পড়ছে মোবাইল গেমস, অনলাইন জুয়াসহ নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
স্হানীয়রা জানান, একটি খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের জায়গা নয়- এটি একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৫ সালে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বরাবরে এলাকার যুবক ও ফুটবলারা মিলে খেলার মাঠের জন্য একটি আবেদন করেন? আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, এলাকার নেতৃস্থানীয় ও ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে একটা নির্দিষ্ট স্হানে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দেবেন। আবেদন-আবেদনের জায়গায়ই রয়ে গেলো, নেই তার কোনো প্রতিফলন।
তাঁরা আরও জানান, এলাকায় খেলার মাঠ না থাকায় খেলাধুলার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে বিকেল হলেই উঠতি বয়সের ছেলেরা বিভিন্ন স্থানে বসে জুয়ার আড্ডা জমায়। সেখান থেকেই মাদকাসক্তির সূত্রপাত গঠে। মাদক ব্যবসায়ীরাও এসব আড্ডার স্থানগুলোকেই বেছে নিয়েছে ব্যবসার জন্য।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দোয়ারাবাজার উপজেলা শাখার মূখ্য সমন্বয়ক রাজিব আহমেদ বলেন, শিশু-কিশোরদের জন্য শারীরিক, মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত জরুরি। খেলাধুলা না করলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও প্রভাব পড়ে। খেলাধুলার জায়গা না থাকায়, তরুন সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্মার্ট ফোন আসক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা অভাব রয়েছে। এলাকার হাজারও মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা সুরমা ইউনিয়নের ১৮ গ্রামের সর্বস্হরের খেলোয়াড়দের জন্য একটি খেলার মাঠ নির্মান করা, অতি জরুরী।
সমুজ আলী কলেজ ছাত্রদল শাখার সভাপতি শাহ্ তামিম আহমদ তারেক জানান, সুরমা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুজ আলী স্কুল এন্ড কলেজ, এ কলেজের নির্ধারিত কোন খেলাধুলরা মাট নেই। মাঠের জায়গায় করে দেয়া হয়েছে একটি বিরাট পুকুর। কলেজের শতশত শিক্ষার্থীসহ এলাকার সকলের দাবি কলেজের মাঠ ভরাট করে যেন, আধুনিক একটি খেলার মাঠ করে নির্মান করে দেয়া হয়! এটা সময়ের দাবি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সংগ্রাম করেছি। সে সময় থেকে থেকে আমাদের প্রাণের দাবি ছিল একটি খেলার মাঠের, এখনো সে দাবি পূর্ণ হয়নী। হবে কি জানিনা, তবে আমরা মহব্বতপুর বাজার এলাকায় একটি ফুটবল খেলার মাঠ চাই।
দোয়ারাবাজার উপজেলা সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ জানান, মহব্বতপুর বাজার এলাকায় খেলাধুলা জন্য একটা মাঠ খুবই জরুরী! দেখা যাক, কি করা যায়।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ'র সাথে কথা হলে তিনি জানান, একটি নতুন মাঠ নির্মাণের দাবিতে আবেদন পেয়েছি। শুধু একটি আবেদন করলেইতো হবে না। নতুন মাঠ নির্মাণ করা বড় কঠিন। এ ব্যপারে যদি এলাকার মানুষ এগিয়ে আসেন, জায়গা নির্ধারণ করে। উধর্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আমরা মাঠ নির্মাণ করে দেব কোন সমস্যা নাই।