প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:১৭ (সোমবার)
কুলাউড়ায় ফানাই নদের বাঁধে ব্লক ধ্বস

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ফানাই নদের বাঁধের সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। এতে বাঁধের ওপর নির্মিত নয়াগাঁও-অলিপুর নতুন পাকা সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩- এর আওতায় প্রায় দুই বছর আগে বড়লেখা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের কুলাউড়া উপজেলার ফানাই নদের ওপর নির্মিত সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত থেকে বাঁধের ওপর দিয়ে ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ নয়াগাঁও-অলিপুর কাঁচা সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থানীয় ঠিকাদার আবদুল লতিফ এ কাজ সম্পন্ন করেন। কাজের অংশ হিসেবে অলিপুর এলাকায় বাঁধের ভাঙনকবলিত প্রায় ৫৫ মিটার অংশে সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়।

সম্প্রতি মার্চ মাসের শেষ দিকে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির পর উজান থেকে প্রচণ্ড পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। এতে প্রবল স্রোতের তোড়ে বাঁধের একাংশের ব্লক ধসে পড়ে। বর্তমানে ওই স্থানে মাটি নদে ধসে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। নদের ওই অংশে বড় একটি বাঁক থাকায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নদে পানি থাকলেও স্রোত তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক। তবে ধসে পড়া ব্লকগুলো তুলে সড়কের বিপরীত পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভাঙনকবলিত স্থানটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলে বাঁধ ও সড়ক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং আশপাশের বাড়িঘরও হুমকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঠিকাদার আবদুল লতিফ বলেন, ‘নকশা অনুযায়ী প্রায় তিন ফুট উচ্চতার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে সিসি ব্লক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ওই স্থানে নদের গভীরতা প্রায় ১০ ফুট হওয়ায় প্রবল স্রোতে নিচের মাটি সরে গিয়ে ব্লক ধসে পড়ে। তিনি জানান, এলজিইডি প্রকৌশলীরা ইতোমধ্যে স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন ঠেকাতে উঁচু প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নদের বিপরীত পাশে বড় চরের সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্রোতের চাপ কমাতে কিছু অংশ খননযন্ত্র দিয়ে কেটে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার বলেন, ‘ঠিকাদারের জামানতের টাকা এখনো রয়েছে। তাঁকে ধসে পড়া অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’