ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (রঃ) দরগাহ মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারের মাননীয় পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এম ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন ত্যাগী, সাহসী ও গণতন্ত্রকামী নেতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সবসময় জনগণের অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন।
‘দেশের জন্য কথা না বললে হয়তো তিনি গুম হতেন না- তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন,’-বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বহু নেতাকর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন।
এ্যানি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে হয়তো আমরা ফিরে পাবো না, কিন্তু তার পরিবারসহ পুরো সিলেটবাসী এখনও প্রতীক্ষায় রয়েছে।’
তিনি জানান, বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন এবং জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম উদ্বোধনের লক্ষ্যে তারেক রহমান শিগগিরই সিলেট সফর করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এম ইলিয়াস আলী দলের ক্রান্তিলগ্নে সিলেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
‘১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গভীর বেদনা ও উদ্বেগের। আমরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাই,’-বলেন তিনি।
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া ছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের এক কলঙ্কজনক কালো অধ্যায়।’
দোয়া মাহফিলে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে এম ইলিয়াস আলীর জন্য কামনা করা হয়। পাশাপাশি দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ চেয়ারম্যান, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম-সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আনোয়ার হোসেন মানিক, কোহিনুর আহমদ, এড. সাঈদ আহমদ, আবুল কাশেম, শাকিল মোর্শেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আল আসলাম মুমিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম জয় এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।