সিলেট থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ফাতেমা জামান রুজি। তিনি সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ফাতেমা জামান রুজি ১৯৯০ সালে ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মী হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে তিনি মহানগর পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
২০০১ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০২ সালে সিলেট মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এম এ হকের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পোলিং এজেন্টের দায়িত্বও পালন করেন।
২০০৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। এ সময় সিলেট মহানগরসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যক্রমেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে দলের দুঃসময়ে ত্যাগী ও সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সিলেট মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা করা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিলেট মহানগরের ৩৮টি ওয়ার্ডে মহিলা দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে তিনি ৩৮টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিলেট নগরীর চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজার এলাকায় আন্দোলনের সময় তার হাওয়াপাড়ার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে, যার চিহ্ন এখনো রয়েছে বলে জানা যায়।
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেত্রী নিজেকে একজন ত্যাগী কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে সিলেট থেকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পাঁচ সন্তানের জননী, এবং তার সন্তানরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে নির্বাচিত হলে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা উন্নয়ন এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে পারবেন।