ছবি: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যারেটিভ তৈরি, তথ্যনীতি এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরে ৪টি এবং ঢাকায় ২টি কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ফ্যাক্ট চেকিং ও ভুয়া খবর প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থা, মূলধারার গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা সভা ও সেমিনারের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে ফটোকার্ড ও তথ্যবিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইনের আওতায় সংবাদপত্র বা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়েরের সুযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে ৮টি অভিযোগ বিচারাধীন আছে।
সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে দেশের ৩২টি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে প্রেস কাউন্সিল। একইসঙ্গে সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ ও অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি-এর অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর মাধ্যমে অসুস্থ, অসচ্ছল ও আহত সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ১,১১০ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০২ জন সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের ৭৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা বৃত্তি এবং রমজানে ২ হাজার পরিবারকে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণে সরকারের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।