ছবি: সংগৃহীত
সিলেট শহরে নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে; সাংবাদিক হতে গেলে আর শুধু কলম থাকলেই হবে না, সঙ্গে লাগবে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা পাসের সনদ!
সিলেট প্রেসক্লাব এবার যেন বলেই দিয়েছে, ‘কলম ধরার আগে একটু বসুন, পরীক্ষা দিয়ে আসুন।’
কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ‘লিখিত পরীক্ষায় কী আসবে? ‘ব্রেকিং নিউজ’ বানানোর শর্টকাট নাকি ‘ভাইরাল শিরোনাম’ রচনার কৌশল?’ আবার কেউ কেউ ইতোমধ্যেই গাইড বই খুঁজছেন, ‘এক সপ্তাহে সাংবাদিকতা শিখুন’, এই ধরনের সম্ভাব্য বইয়ের চাহিদা নাকি বেড়েই চলেছে!
নিয়মও বেশ শক্ত। রিপোর্টারদের জন্য স্নাতক, ফটোগ্রাফারদের জন্য এইচএসসি, তারপর আছে অভিজ্ঞতার প্রমাণ। যেন একেবারে সরকারি চাকরির পরীক্ষার আমেজ। লিখিত ৪০, ভাইভা ১০, মোট ৫০ নম্বর। শুনে অনেকে হিসাব কষছেন, ‘ভাইভাতে যদি একটু হাসিমুখে ‘স্যার স্যার’ করা যায়, তাহলে পাস মার্ক উঠে যেতে পারে!’
তবে এই উদ্যোগকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান সময়ে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ আর ‘মোবাইল জার্নালিজম’-এর নামে যা চলছে, তাতে অনেকেই সাংবাদিকতা আর ফেসবুক লাইভের পার্থক্যটাই ভুলে বসেছেন। এই অবস্থায় একটা মানদণ্ড নির্ধারণের চেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অন্তত কেউ তো বলছে, ‘ভাই, নিউজ করার আগে একটু জানাশোনা থাকা দরকার।’
বিষয়টা আসলে তা নয়। সাংবাদিক হতে নয়। সিলেট প্রেসক্লাব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সংগঠনের সদস্য হতে গেলে অন্তত একটা যোগ্যতা লাগবে।
কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। নতুনদের জন্য পরীক্ষা; চমৎকার। কিন্তু পুরোনোদের কী হবে? যারা বহু বছর আগে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সদস্য হয়েছেন, তাদের জন্য কি ‘রিভিশন টেস্ট’ থাকবে? নাকি তারা ‘অভিজ্ঞতা’ নামক এক অদৃশ্য নম্বর নিয়ে আজীবন পাস?
আরেকটা ছোট্ট, নিরীহ প্রশ্ন, যারা পরীক্ষা নেবেন, তারা নিজেরা কি আগে কোনো পরীক্ষায় পাস করেছিলেন? নাকি তাদের জন্য ছিল ‘ওপেন বুক লাইফ এক্সপেরিয়েন্স’? যদি পরীক্ষা নেওয়ার জন্যও একটা পরীক্ষা নেওয়া হতো, তাহলে বিষয়টা আরও গণতান্ত্রিক হতো না?
ভাবুন তো, একদিন হঠাৎ ঘোষণা এলো, ‘আগামী শুক্রবার প্রেসক্লাবের সকল সদস্যের জন্য রিফ্রেশার পরীক্ষা। বিষয়: নৈতিক সাংবাদিকতা, যাচাই-বাছাই এবং গুজব চিনে ফেলার সহজ উপায়।’ তখন হয়তো দেখা যাবে, নতুন প্রার্থীদের চেয়ে পুরোনো সদস্যদের মধ্যেই বেশি দুশ্চিন্তা!
সব মিলিয়ে উদ্যোগটা ভালো, বরং খুবই দরকারি। কিন্তু এই পরীক্ষার খাতা যেন শুধু নতুনদের জন্যই না খোলা থাকে। সাংবাদিকতার মান ঠিক রাখতে হলে প্রশ্নটা সবার জন্যই সমান হওয়া উচিত। নইলে নতুনরা পরীক্ষা দিয়ে ঢুকবে, আর পুরোনোরা প্রশ্নপত্র না দেখেই উত্তর বলে দেবে, এই অদ্ভুত বৈপরীত্যটাই থেকে যাবে।
শেষ কথা, পরীক্ষা হোক; অবশ্যই হোক। তবে মাঝে মাঝে পরীক্ষকের দিকেও একটু নজর দেওয়া ক্ষতি কী?