প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:১২ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে এখন আগের দ্বিগুণ বিক্রি হচ্ছে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেলও!

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের জ্বালানির বাজারে যেন হঠাৎই নেমে এসেছে এক অদ্ভুত অস্বস্তি; সংকটের নয়, বরং এক অদৃশ্য রহস্যের।

কয়েক সপ্তাহ আগেও সবকিছু ছিল স্বাভাবিক ছন্দে। প্রতিদিন যতটুকু তেল লাগত, ততটুকুই বিক্রি হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই হিসাব ভেঙে গেছে। এখন আগের দ্বিগুণ বিক্রি হচ্ছে অকটেন, পেট্রোল, এমনকি ডিজেলও। সংখ্যাগুলো কেবল বাড়ছে, কিন্তু তার ব্যাখ্যা যেন কোথাও মিলছে না।

নগরের উপশহর এলাকার এক পেট্রোল পাম্প মালিক রিয়াসদ আজিম আদদান নিজেই বিস্মিত। আগে যেখানে দিনে ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হতো, এখন সেখানে ১৪ থেকে ১৬ হাজার লিটার বিক্রি হচ্ছে। তিনি নিজেই প্রশ্ন তুলছেন; এই অতিরিক্ত তেল যাচ্ছে কোথায়?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসে কয়েকটি সম্ভাবনা; কিন্তু কোনোটাই নিশ্চিত নয়।

একটি ধারণা, মানুষের ভেতরে কাজ করছে অদৃশ্য এক আতঙ্ক। সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। যেন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে আগে থেকেই বন্দী করে রাখতে চাইছেন নিজেদের ছোট ছোট ট্যাংকে।

আরেকটি ফিসফাস শোনা যাচ্ছে সীমান্ত ঘেঁষা এই অঞ্চলে; তেল কি তবে চুপিসারে পাড়ি জমাচ্ছে সীমান্তের ওপারে? কেউ নিশ্চিত করে বলছে না, আবার পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেও না। কথাগুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে, কিন্তু প্রমাণের মুখ দেখছে না।

এদিকে শহরের বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে দেখা যায় আরেকটি অদ্ভুত চিত্র। পেট্রোল বা অকটেনের চেয়ে সিএনজি গ্যাসের লাইনে ভিড় বেশি। গ্যাসের দাম এখনো বাড়েনি, তাই অনেকেই ঝুঁকছেন সেদিকে। কিন্তু তবুও তেলের চাহিদা কমার বদলে বাড়ছে; এ যেন হিসাবের বাইরে এক সমীকরণ।

একজন মোটরসাইকেল চালক বললেন, ‘মাঝেমধ্যে তেল পাওয়া যায় না। তাই একটু বেশি কিনে রাখছি।’ এই ‘একটু বেশি’ যদি অনেকের ক্ষেত্রে ঘটে, তাহলে সেটাই কি এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ? নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনো প্রবাহ, যা চোখে দেখা যায় না?

জ্বালানি ব্যবসায়ীরাও পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারছেন না। তাদের ভাষায়, ডিপোতে সরবরাহ কাগজে-কলমে কিছুটা বাড়লেও বাস্তবে সেই বাড়তি সুবিধা পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। বরাদ্দের অঙ্ক বাড়ছে, কিন্তু বাস্তবের ট্যাংক যেন আগের মতোই থাকছে।

অন্যদিকে শহরের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন নেই; যা সাধারণত সংকটের সময় দেখা যায়। সবকিছু চলছে, কিন্তু তবুও যেন কোথাও একটা অস্বাভাবিকতা লুকিয়ে আছে। যেন নদীর পানি স্বাভাবিকভাবে বইছে, অথচ নিচে স্রোতের দিক বদলে গেছে।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় প্রতিদিন প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখন সেই চাহিদার অঙ্ক যেন নিঃশব্দে বেড়ে যাচ্ছে; কেউ হিসাব রাখছে, কিন্তু কেউ বুঝতে পারছে না কেন।

তাহলে প্রশ্নটা থেকেই যায়; এই অতিরিক্ত জ্বালানি কোথায় যাচ্ছে? মানুষের আতঙ্কে জমে থাকা ট্যাংকে? নাকি সীমান্তের অদৃশ্য কোনো পথে? নাকি এমন কোনো ব্যবহারে, যা চোখের সামনে থেকেও ধরা পড়ে না?

সিলেটের জ্বালানি বাজার এখন যেন এক অদেখা রহস্যের গল্প; যেখানে সংখ্যাগুলো কথা বলছে, কিন্তু সত্যটা এখনো নীরব।