ছবি: কবীর সুমন
বাংলা গানের ‘জীবনমুখী’ ধারার প্রবর্তক, সংগীতশিল্পী ও সাবেক সংসদ সদস্য কবীর সুমন জানিয়েছেন, তার জীবনের পুরোনো ভোটের স্মৃতিগুলো এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তবে শৈশব ও তরুণ বয়সের কিছু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আজও তার মনে দাগ কেটে আছে।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ছোটবেলায় পাড়ায় বড়দের মুখে শোনা বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান তাকে আকর্ষণ করত। বিশেষ করে ‘ভোট দেবেন কিসে, কাস্তে ধানের শিষে’- এমন স্লোগান শুনে তিনি ও তার সমবয়সীরা তা অনুকরণ করতেন। তবে পরিবার থেকেই এ বিষয়ে সতর্কবার্তাও পেয়েছিলেন।
তিনি জানান, তার পরিবারে রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল স্পষ্ট। বাবা ছিলেন কংগ্রেস সমর্থক এবং জওহরলাল নেহরু-এর ভক্ত। অন্যদিকে মা ছিলেন কট্টর বামপন্থী, বিশেষ করে সিপিআইএমের সমর্থক। এ নিয়ে প্রায়ই পরিবারে তর্ক-বিতর্ক হলেও তা কখনো সম্পর্কের অবনতি ঘটায়নি।
কবীর সুমন বলেন, তরুণ বয়সে তার মধ্যে এক ধরনের নকশালপন্থি চিন্তাভাবনা কাজ করত। তখন তিনি বিশ্বাস করতেন, ভোটের মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়; বরং বিপ্লবই একমাত্র পথ। তবে পরবর্তী সময়ে তার সেই ভাবনায় পরিবর্তন আসে, বিশেষ করে নিজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর ভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রথম ভোট দিতে গিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে সেখান থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল। আবার একবার তার বাবা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ভোট নষ্ট করেছিলেন বলেও জানান তিনি, যদিও এর কারণ আজও তার অজানা।
সংগীতের পাশাপাশি রাজনৈতিক জীবন নিয়েও তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রভাবিত হলেও কোনো দলে সরাসরি যুক্ত হননি। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন এবং পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বর্তমানে সংগীতচর্চার পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন এই গুণী শিল্পী।