প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ২১:৩১ (শনিবার)
গানে ঐক্যের বার্তা দেন বব মার্লে

ছবি: বব মার্লে।

সংগীত ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন ১৯৭৮ সালের ২২ এপ্রিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এদিন মঞ্চে ফেরেন কিংবদন্তি শিল্পী বব মার্লে। রাজধানী কিংস্টনের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান লাভ পিস কনসার্ট’-এ তাঁর এই প্রত্যাবর্তন হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক।

১৯৭৬ সালের ৩ ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে হামলায় বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন মার্লে। প্রায় দুই বছর পর তিনি এই কনসার্টে অংশ নেন, যা ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড উডস্টক’ নামেও পরিচিত। রাজনৈতিক সহিংসতায় বিভক্ত জ্যামাইকায় ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

সত্তরের দশকে জ্যামাইকা তীব্র রাজনৈতিক সহিংসতায় জর্জরিত ছিল। পিপলস ন্যাশনাল পার্টি ও জ্যামাইকা লেবার পার্টির দ্বন্দ্বে রাজধানী কিংস্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শান্তির প্রতীক হয়ে ওঠেন মার্লে।

কনসার্টের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে, যখন তিনি মঞ্চে তুলে আনেন দেশটির দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল ম্যানলি ও এডওয়ার্ড সিগা-কে। ‘জ্যামিং’ গান গাওয়ার সময় তাঁদের হাত মেলাতে আহ্বান জানান মার্লে। তাঁর সেই উদ্যোগ সংগীতের মাধ্যমে ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে আজও।

প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে বিকেল থেকে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলে এই কনসার্ট। এতে অংশ নেন জ্যামাইকান তারকারা- বিগ ইয়ুথ, মাইটি ডায়মন্ডস, আলথিয়া ও ডোনা, জ্যাকব মিলারসহ আরও অনেকে।

পরে মঞ্চে উঠে ‘ট্রেঞ্চটাউন রক’, ‘ন্যাটি ড্রেড’ ও ‘ওয়ার’-এর মতো গান পরিবেশন করে ঐক্যের বার্তা দেন মার্লে। ‘ওয়ান লাভ’ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

নির্বাসনকালে লন্ডনে অবস্থান করে বব মার্লে ও তাঁর ব্যান্ড দ্য ওয়েইলার্স রেকর্ড করেন বিখ্যাত অ্যালবাম এক্সোডাস। এতে ‘জ্যামিং’ ও ‘থ্রি লিটল বার্ডস’-এর মতো জনপ্রিয় গান স্থান পায়। পরবর্তীতে এই অ্যালবাম সংগীত ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ‘রোলিং স্টোন’-এর তালিকায় সর্বকালের সেরা ৫০০ অ্যালবামের মধ্যে ৪৮তম স্থান অধিকার করে।

যদিও ওই কনসার্ট জ্যামাইকায় স্থায়ী শান্তি আনতে পারেনি, তবুও বব মার্লের সেই ঐতিহাসিক মঞ্চ আজও প্রমাণ করে- সংগীতের শক্তি মানুষকে একত্রিত করতে পারে।